মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। গত দুই মাসের মধ্যে এই প্রথম তেলের দাম এ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গত বুধবার (২২ জুলাই) প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল প্রায় ৯৫ ডলার। তবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা এবং লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
বৃহস্পতিবার হুথি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার—‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’—লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য, ঘোষিত লোহিত সাগর নৌ-অবরোধ অমান্য করায় এসব জাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়।
এর আগে গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে বিমান হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দামও ১০০ ডলার অতিক্রম করেছিল। তখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল।
সংঘাতের সবচেয়ে উত্তপ্ত সময়ে এপ্রিলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছায়। পরে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হলে মে মাসের শেষ দিকে দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে এবং জুলাইয়ের শুরুতে তা ৭১ ডলারে নেমেছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর পারস্য উপসাগরে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে।




Comments