Image description

শৈশবের সেই অন্ধকার রাতগুলোর কথা মনে পড়ে? যখন ঝোপঝাড়ে হাজার হাজার জোনাকি জ্বলে উঠত, মনে হতো আকাশ থেকে তারারা বুঝি মাটিতে নেমে এসেছে। কিন্তু বিজ্ঞানীদের এক বেদনাদায়ক পূর্বাভাস বলছে, আমরাই হয়তো পৃথিবীর সেই 'শেষ প্রজন্ম' যারা জোনাকির মেলা স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি।
কেন হারিয়ে যাচ্ছে জোনাকি?
১. আলোক দূষণ (Light Pollution): জোনাকির আলো আসলে তাদের মিলনের সংকেত। পুরুষ ও স্ত্রী জোনাকি আলোর মাধ্যমে একে অপরকে খুঁজে নেয়। কিন্তু শহরে ও গ্রামে কৃত্রিম আলোর (LED বা বাল্ব) তীব্রতা এত বেশি যে, জোনাকিরা নিজেদের সংকেত আর চিনতে পারে না। ফলে তাদের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
২. বাসস্থান ধ্বংস: ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা, জলাভূমি ভরাট এবং নগরায়নের ফলে তাদের প্রাকৃতিক আবাস হারিয়ে যাচ্ছে। জোনাকির লার্ভা সাধারণত ভেজা মাটিতে বড় হয়, যা এখন কংক্রিটের নিচে ঢাকা পড়ছে।
৩. কীটনাশকের ব্যবহার: কৃষিকাজে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জোনাকি এবং তাদের খাদ্য (ছোট শামুক বা পোকা) ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থা
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী জোনাকি এখন সংরক্ষিত এবং বিপন্নপ্রায়। চট্টগ্রাম এবং সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলে যেখানে এখনও জঙ্গল ও আর্দ্রতা টিকে আছে, সেখানে অল্প কিছু দেখা মেলে। অথচ বিশ-ত্রিশ বছর আগেও বাংলাদেশের প্রায় সব ঝোপঝাড়ে সন্ধ্যার পর জোনাকির মেলা বসত।
আমাদের করণীয়
আলোর নিয়ন্ত্রণ: বাড়ির আশেপাশে বা বাগানে অপ্রয়োজনীয় তীব্র আলো পরিহার করা।
প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা: বাড়ির এক কোণে অন্তত কিছু ঝোপঝাড় বা ঘাস কাট না করে প্রাকৃতিকভাবে বাড়তে দেওয়া।
কীটনাশক বর্জন: বাগানে বা ফসলি জমিতে জৈব সার ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি ব্যবহার করা।
সত্যিই, আমরা সম্ভবত সেই শেষ প্রজন্ম যারা শৈশবে বাঁশঝাড় বা আমবাগানে হাজার হাজার জোনাকি জ্বলতে দেখেছি। আগামী প্রজন্মের কাছে জোনাকি হয়তো কেবল রূপকথার গল্পের কোনো কাল্পনিক প্রাণী হয়ে থাকবে।