রাজধানীর রমনা থানা এলাকায় পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়েছিলেন এক গৃহবধূ রুপা আক্তার (৩২)। তার ফোনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সহযোগিতা না করে ফিরে এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ওই গৃহবধূ জানান, পুলিশ ফিরে যাওয়ার পরক্ষণেই স্বামীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্বজনরা তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রমনা থানাধীন মগবাজার মোসলেম উদ্দিন টাওয়ারের অ-১ নিজ ফ্ল্যাটে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী রুপা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বামী জালাল উদ্দিন পারিবারিক কলহের জেরে আমার পেটে ইলেকট্রিক শক দেন। পরে অ্যান্টিকাটার নিয়ে তাড়া করলে আমি নিজ কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিই। জালাল দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে মৃত্যুর আশঙ্কার কথা প্রকাশ করি।
কিছুক্ষণ পর পুলিশ বাসায় আসে এবং স্বামীর সঙ্গে কথা বলে চয়ে যায়। আমি বাঁচার জন্য চিৎকার করলেও পুলিশ কোনো কথা শোনেনি। বরং পুলিশ চলে যাওয়ার পর জালাল নিজেকে ক্ষমতাধর বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন আমার স্বামী।’
রুপা আরো বলেন, ‘এ সময় আমি নিরুপায় হয়ে দরজা খুলে বাইরে এলে তিনি আমাকে অ্যান্টিকাটার দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ দিতে থাকেন।
ছুরিকাঘাতে আমার গলায়, হাতে, ঘাড়ে ও পেটে বড় বড় ক্ষত হয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পরে সেখান থেকে ছুটে বাইরে চলে যাই। রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রমনা থানার ওসি মো. রাহাত খান বলেন, ‘৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। ভুক্তভোগীর স্বামী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানতে পেরেছি।
তবে পুলিশ ফিরে আসার পর ভুক্তভোগী তার স্বামীর ছুরিকাঘাতে গুরতর জখম হয়েছেন, এ বিষয়টি জানা নেই। ভুক্তভোগী নিজে বা তার আত্মীয়ের মাধ্যমে ওই ঘটনায় কোনো অভিযোগ দিলে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চার সন্তানের মা ওই গৃহবধূর অভিযোগ, ‘১৬ বছরের সংসার জীবনে ২০১৮ সাল থেকেই নানা অজুহাতে তাকে অত্যাচার করতেন জালাল। কখনো টাকা চুরি, আবার কখনো পরকীয়ার অভিযোগ এনে মারধর করতেন। শত অত্যাচার সহ্য করেও সংসার ছাড়িনি।
একাধিকবার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দিতে গিয়েও ফিরে এসেছি। স্বামী জালাল উদ্দিন পেশায় কাস্টমস ইন্সপেক্টর। তিনি ঢাকা এয়ারপোর্টে কর্মরত। এর পাশাপাশি তিনি ব্যবসা করেন।’




Comments