অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলায় যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট-কে পৃথক দুই ধারায় মোট ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী ফকির জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রায়ে বলা হয়েছে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে সম্রাটকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে অর্থপাচারের অভিযোগে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, অনাদায়ে অতিরিক্ত ৬ মাসের সাজা ভোগ করতে হবে। তার অর্জিত অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
দুই ধারার সাজা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাকে মোট ২০ বছর কারাভোগ করতে হবে। সম্রাট পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
এর আগে ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো কার্যক্রম প্রকাশ্যে এলে আত্মগোপনে যান সম্রাট। পরে ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কার্যালয়ে অভিযানে অস্ত্র, মাদক ও বন্যপ্রাণীর চামড়াসহ বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী উদ্ধারের কথা জানায় র্যাব।
ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার ঘটনায় তাকে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলাও হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে চার মামলায় জামিন পান তিনি এবং প্রায় ৩১ মাস কারাভোগের পর মুক্তি লাভ করেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের ১৭ জুলাই অবৈধ সম্পদ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত এবং তার জামিন বাতিল করা হয়। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। অভিযোগপত্রভুক্ত ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ৯ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছিল।
পলাতক থাকায় সম্রাট আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য বা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে পারেননি।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments