Image description

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় লালবাগ থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এই আদেশ দেন।

এদিন দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে শিরীন শারমিনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। প্রথমে তাকে হাজতখানায় রাখা হলেও বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে এজলাসে তোলা হয়। শুনানির সময় আদালত প্রাঙ্গণে উৎসুক মানুষের প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়, যার ফলে সাবেক এই স্পিকারকে কিছুটা নাজেহাল হতে হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লালবাগ জোনের কোতোয়ালি জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদনই নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে শিরীন শারমিন বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। সর্বশেষ তিনি রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন, সেখান থেকেই মঙ্গলবার ভোরে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ মোট ৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে তিনটি তদন্তাধীন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৮ জুলাই জুলাই আন্দোলনের সময় লালবাগের আজিমপুরে আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক যুবকের চোখে গুলি লাগে। এই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, যেখানে শিরীন শারমিনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকে টানা স্পিকারের দায়িত্বে থাকা শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২ সেপ্টেম্বর তিনি স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

মানবকণ্ঠ/আরআই