বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের একটি মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আদালত থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় হুড়োহুড়িতে পড়ে যান সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। ৬০ বছর বয়সী সাবেক এই স্পিকার ব্যথায় চিৎকার দেওয়ার পরপরই তাকে দ্রুত টেনে তুললেন পুলিশ সদস্যরা।
পরে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত জনতা ও সমর্থকেরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তাকে সমর্থন জানান।
এদিন এ মামলায় শিরীন শারমিনের দুদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোকছেদুল হাসান মন্ডল রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা উভয়পক্ষের আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) ওমর ফারুক আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিন আদালতের কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান শিরীন শারমিন। এসময় কয়েকজন আইনজীবী তাকে সালাম দেন। হাত উঁচিয়ে সালামের উত্তর দেন শিরীন শারমিন। মিনিটখানেক পর বিচারক জুয়েল রানা এজলাসে ওঠেন। আদালতে মামলার অভিযোগ পড়ে শোনান রিমান্ড আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তা। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের পিপি ওমর ফারুক আদালতকে বলেন, আসামি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে যুক্ত থেকে অপরাধ করেছেন।
তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জোর দিয়ে বলেন, মামলায় শুধু নাম উল্লেখ করা আছে, কোনো প্রমাণ নেই। আমরা চাইলে জামিনও চাইতে পারি। তবে আসামি একজন (সাবেক) নারী স্পিকার। নিশ্চয়ই তিনি প্রটোকল নিয়ে গুলি চালাননি। তার বিরুদ্ধে আগেও কোনো অভিযোগ নেই।
শুনানির একপর্যায়ে একসঙ্গে অনেক আইনজীবী বক্তব্য তুলে ধরেন। এরপর বিচারক জামিন ও রিমান্ড দুটি আবেদনই নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এরপর আদালত থেকে বের হওয়ার সময় শিরীন শারমিনের উপস্থিত সমর্থকেরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তাকে সমর্থন দেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন আইনজীবী।
এর আগে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টায় রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করা হয়। পরে লালবাগ থানার ওই মামলায় তাকে আদালতে তোলে পুলিশ।




Comments