রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার মামলায় বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (৩ জুন) আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সকাল সাড়ে ১০টায় এই শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার বাদী ও রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার এবং ছোট বোন রাইসা আক্তারসহ মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের তালিকায় চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট এবং ঘটনার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারাও ছিলেন।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ১ জুন প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে ১৮ জনকে সাক্ষী করে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন, যা ট্রাইব্যুনাল সেদিনই আমলে নেয়।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তার ঘরে ডেকে নেয়। দীর্ঘক্ষণ রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে তার বাবা-মা ওই কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের একটি বালতিতে তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরই পুলিশ স্বপ্নাকে আটক করে। প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ মে রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। দেশব্যাপী আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করার দাবি জানিয়ে আসছে রামিসার পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments