ডিভোর্স না দিয়ে অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে দায়েরকৃত আলোচিত ব্যভিচার ও মানহানির মামলা থেকে চূড়ান্তভাবে খালাস পেয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসাইন এবং তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি। আজ বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ৬ মে বাদী ও আসামি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষ হয়। শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে, নাসিরের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তাদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালত আজ রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন এবং শুনানিতে আসামিদের খালাস দেওয়া হয়।
২০২১ সালে দণ্ডবিধির ৪৯৭, ৫০০ এবং ৩৪ ধারায় তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
মামলার মূল অভিযোগগুলো ছিল নিম্নরূপ
আগের বিয়ে সচল থাকা: ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয়, যেখানে তাঁদের আট বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা সাবেক স্বামী রাকিবকে ডিভোর্স না দিয়েই ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন।
মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি: রাকিবের দাবি ছিল, তাঁর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় তাম্মির এই বিয়ে ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। এই অনৈতিক সম্পর্কের কারণে রাকিব এবং তাঁর নাবালিকা কন্যা মারাত্মক মানসিক বিপর্যয় এবং অপূরণীয় সামাজিক মানহানির শিকার হয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদন ও বিচার: ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তবে মামলার অপর আসামি তামিমার মা সুমি আক্তারকে শুরুতেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। মামলাটিতে মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আজ আদালত এই দম্পতিকে মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি ও খালাস দিয়ে রায় প্রদান করলেন।
মানবকন্ঠ/আরআই




Comments