জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির বিভিন্ন মেয়াদের সাজার ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
গত বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরের পর রায়টি প্রকাশ করা হয়।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ ক্যাম্পাসে নিরস্ত্র ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বেআইনি অভিযানে জেনেশুনে সহায়তা ও সমর্থন দিয়েছেন। তিনি সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা না নিয়ে বরং অভিযানে জড়িতদের প্রতি নীরব সম্মতি দেন বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
রায়ে আরও বলা হয়, তার কর্মকাণ্ড ও নিষ্ক্রিয়তা আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড এবং অন্যদের আহত হওয়ার ঘটনায় ভূমিকা রেখেছে।
ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে জানায়, রংপুরের সাবেক পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অনুমতি দেন এবং তার অধীনস্থদের বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ বা শাস্তি দিতে ব্যর্থ হন।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ এবং জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল নিশ্চিত হয়েছে যে, পুলিশ সদস্যরা আবু সাঈদকে ইচ্ছাকৃতভাবে এবং বেআইনিভাবে হত্যা করেছে। এই হত্যাকাণ্ডকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেওয়া হয়।
এছাড়া ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করে, আবু সাঈদের মৃত্যু জুলাই–আগস্ট ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর একটি পরিকল্পিত ও ব্যাপক হামলার অংশ ছিল। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় তারা পেয়েছেন এবং আদালত অত্যন্ত বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই রায় দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ৩০ জন আসামিকেই বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনার সময় যারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে বা সহিংসতায় সরাসরি জড়িত ছিল, তাদেরও অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।




Comments