রান্না করার সময় অসাবধানতাবশত কড়াইতে আগুন ধরে যায়, পুড়ে যায় তরকারি। রাগে সেই পোড়া কড়াই দিয়ে গৃহকর্মীর শরীরে ছ্যাঁকা দিলেন গৃহকর্তা। সঙ্গে চড়, থাপ্পড়, অসংখ্যবার কান ধরে ওঠবস করা তো ছিলই।
এমন নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে গতকাল বুধবার দুপুরে। এমন নির্দয় কাজটি করেন পুলিশের উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) পপি রানী সাহা মিত্র। তিনি নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় কর্মরত। তার স্বামী সঞ্জয় কুমার সরকারও এএসআই হিসেবে একই থানায় রয়েছেন।
জানালা দিয়ে দৃশ্যটি দেখে ওই বাড়িতে ছুটে যান কয়েকজন সংবাদকর্মী ও নারী নেত্রী। তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতিত গৃহকর্মী মিলন দাশকে উদ্ধার করে। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।
এদিকে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ দম্পতি পপি রানী সাহা ও সঞ্জয় কুমার সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর মা মিনতি রানী। ওই মামলায় দম্পতিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে সঞ্জয়কে আজ দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত পপি রানী সাহা বুধবার রাতে স্ট্রোক করেন। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের ডান হাতসহ একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুই কর্মকর্তা বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে খুলনার পুলিশ কমিশনার।




Comments