সংবিধানে সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা কিংবা বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম থাকবে কি না—এমন মৌলিক নীতি নির্ধারণের বিষয়গুলো আদালতের নয়, বরং সংসদের সিদ্ধান্তের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। তিনি মনে করেন, এসব বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দিলে তা সংসদের এখতিয়ারে হস্তক্ষেপের শামিল হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল প্রশ্নে শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচিত এই মামলায় তিনি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন।
শুনানিতে শিশির মনির বলেন, “সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস কিংবা সংবিধানের ৮ থেকে ১২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি কী হবে—এসব নীতিগত প্রশ্ন নির্ধারণ করবে সংসদ। আদালত যদি এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়, তবে তা আইন প্রণয়নের শামিল হবে। অথচ সংবিধান সংশোধন বা রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা নির্ধারণের দায়িত্ব একমাত্র সংসদের। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংসদ যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই সংবিধানের অংশ হওয়া উচিত।”
পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিলের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “পুরো সংশোধনী একযোগে বাতিল করলে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনায় জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই যেসব বিধান সরাসরি অসাংবিধানিক, কেবল সেগুলো বাতিল করা হোক। বাকি বিষয়গুলো বর্তমান নির্বাচিত সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু আপিল বিভাগ ইতোমধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেছেন, তাই এই ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শপথ ও বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিধানগুলো বহাল রাখা সাংবিধানিক অসামঞ্জস্য তৈরি করবে। এ কারণে ওই অংশগুলো বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে।
সংবিধানের ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদের সমালোচনা করে শিশির মনির বলেন, “কোনো গণতান্ত্রিক সংবিধানে সংশোধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং তা লঙ্ঘন করলে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান থাকা উচিত নয়। বর্তমান প্রজন্ম ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত আগে থেকে নির্ধারণ করে দিতে পারে না। ভবিষ্যতের সংসদ যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কোনো পরিবর্তন চায়, তবে তাদের সেই সুযোগ থাকতে হবে।”
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে টানা তিন দিন শুনানির পর আদালত এই মামলার রায়ের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষও মনে করে, সংসদের এখতিয়ারের বিষয়গুলো সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়ে আদালত ও সংসদের দায়িত্ব আলাদাভাবে নির্ধারিত হওয়া উচিত।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments