দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেতৃত্ব দিচ্ছে রামপালের মৈত্রী সুপার পাওয়ার প্ল্যান্ট
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে দ্বিতীয়বারের মতো ইতিহাস সৃষ্টি করেছে রামপালের মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) পরিচালিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ৬৪০ মিলিয়ন ইউনিট (এমইউ) বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে কেন্দ্রটি ৭০০ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা দেশের যেকোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ মাসিক উৎপাদনের রেকর্ড। রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দেশে বিদ্যমান সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে মাসিক ভিত্তিতে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের কৃতিত্ব অর্জন করেছে রামপালের মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট। এ হিসেবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রথম স্থান অধিকার করেছে কেন্দ্রটি।
জানা গেছে, ডিসেম্বর মাসে উৎপাদিত ৬৪০ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে, যা স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) মধ্যেও সর্বোচ্চ। একই সময়ে দেশের মোট ৫ হাজার ৫৩১ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে এই কেন্দ্রটি একাই ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, যা টানা দ্বিতীয় মাসের মতো একটি রেকর্ড সাফল্য।
বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মহাব্যবস্থাপক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। গত দুই মাসে প্রায় ৮ লাখ টন কয়লা খালাস করা হয়েছে এবং বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ২ লাখ টন কয়লার মজুত রয়েছে। এই মজুত আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার আওতায় নির্মিত মৈত্রী প্রকল্পটি আমদানি করা কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এতে দক্ষতা বৃদ্ধি ও নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে আধুনিক অতি-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে রয়েছে ফ্লু-গ্যাস ডিসালফারাইজেশন (এফজিডি) ইউনিট, ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটর (ইএসপি), ২৭৫ মিটার উচ্চতার চিমনি, ক্লোজড-সাইকেল কুলিং সিস্টেম এবং শূন্য-তরল-নিষ্কাশন ব্যবস্থা।
আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হলেও কেন্দ্রটির বৃহৎ সক্ষমতা, ধারাবাহিক কর্মদক্ষতা এবং শক্তিশালী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে জাতীয় গ্রিডে কম খরচে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে। এতে শিল্প খাতের কর্মকাণ্ড সচল থাকছে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।




Comments