নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: প্রধান উপদেষ্টা
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকের প্রধান দিকগুলো:
১. নির্বাচন ও গণভোটের গুরুত্ব: প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—দুটিই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ১৬ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি, তবে এবার উৎসবমুখর পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
২. ইইউ-এর পর্যবেক্ষক দল: পাওলা পাম্পালোনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইইউ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পর্যবেক্ষণে একটি উচ্চপর্যায়ের বড় মিশন পাঠাচ্ছে ইইউ। মিশনের প্রধান চলতি সপ্তাহেই বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।
৩. সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি: বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ‘সমন্বিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি’ (পিসিএ) নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই পক্ষের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
৪. সংস্কারের প্রশংসা: গত ১৭ মাসে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অসাধারণ ও ব্যাপক’ সংস্কারমূলক কাজের প্রশংসা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউ কর্মকর্তারা মনে করেন, এই সংস্কারগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
৫. জুলাই সনদ ও গণভোট: প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বাস করেন, সব রাজনৈতিক দল ‘জুলাই সনদ’-এ সমর্থন দিয়েছে এবং তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবেন। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না কোনো দল ‘না’ ভোটের পক্ষে যাবে।”
সাক্ষাতে আরও আলোচনা হয় অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments