Image description

বাংলাদেশকে ভালো রাখতে হলে বেগম খালেদা জিয়াকে আত্মস্থ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মধ্যে অনেক অসাধারণ গুণাবলি ছিল। তিনি ছিলেন সৎ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, আত্মত্যাগী ও দেশপ্রেমিক। তার ব্যক্তিত্বে রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ দেখা যেত। পাশাপাশি তিনি ছিলেন পরমতসহিষ্ণু।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় এসব কথা বলেন আসিফ নজরুল।

আইন উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালে এবং বন্দিদশায় থাকাকালীন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার পক্ষে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু তখন তার পক্ষে কথা বলার মানুষ পাওয়া যেত না। তিনি স্মরণ করে বলেন, খালেদা জিয়া যখন মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন এবং চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল, তখন অনেকের কাছে অনুনয়-বিনয় করা হয়েছিল। অনেকের ইচ্ছা থাকলেও সাহসের অভাবে তারা এগিয়ে আসেননি।

আসিফ নজরুল বলেন, আজ সবাই মুক্তভাবে বেগম জিয়ার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারছে-এটি তার কাছে আনন্দের। তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে হাজার শোকর এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, কারণ বাংলাদেশের মানুষ এখন স্বাধীনভাবে ঘৃণা প্রকাশের পাশাপাশি স্বাধীনভাবে ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারছে। এই কারণেই একজন নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আর আরেকজনের ঠাঁই হয়েছে বিতাড়িত ভূমিতে।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে বিচার হয়েছিল, সেটি ছিল অদ্ভুত ও উদ্ভট। ওই বিচারে খালেদা জিয়া অন্য পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে বিস্মিত ও ব্যথিত হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমি কি এতিমের টাকা মেরে খেয়েছি? কিন্তু সেই বিস্ময় ও কষ্টের প্রকাশকেই রায়ে এমনভাবে লেখা হয়েছিল, যেন তিনি নিজেই অপরাধ স্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে রাজধানীতে এই নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন।

শোকসভায় দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।