Image description

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও ভাতা খাতে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সংশ্লিষ্ট খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াল ১ লাখ ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং নতুন বেতন কাঠামো প্রবর্তনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই বাজেটের এই সংশোধন আনা হয়েছে। 

২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধন করে কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে প্রায় ৫ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা করা হলেও উন্নয়ন ব্যয় বা এডিপি কমিয়ে আনা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি, ব্যাংক একীভূতকরণে মূলধন সহায়তা এবং বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির কারণে পরিচালন ব্যয় কমানো সম্ভব হয়নি। ফলে উন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে ভারসাম্য আনা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা আসতে পারে। কমিশনের প্রতিবেদন আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে হয় সংশোধিত মূল বেতন কাঠামো অথবা নতুন ভাতাসমূহ কার্যকর করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশোধিত বাজেটে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট হবে বলে মনে করছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, নতুন বেতন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বৃদ্ধি করা হবে।

এদিকে সরকার ইতিমধ্যে সংশোধিত বাজেট চূড়ান্ত করেছে এটি আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। নতুন বাজেটে মোট আকার ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

সংশোধিত বাজেটে উন্নয়ন বাজেট ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হলেও অনুন্নয়ন বাজেট ২৮ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে, যার বড় অংশই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে।

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। এ ছাড়া নতুন বেতন কাঠামো বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যদিও তাদের বেতন সরাসরি সরকারি বাজেট থেকে দেওয়া হয় না।