দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বচ্ছ করা, ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলুপ্ত করা এবং ভবিষ্যতে নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. আলী রিয়াজ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।
ড. আলী রিয়াজ বলেন, "জুলাই সনদ শুধু একটি সংবিধান নয়; এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার রূপরেখা। এই সনদের মাধ্যমেই দেশে একটি জবাবদিহিমূলক বিচার ব্যবস্থা এবং সবার জন্য সমান ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।"
বিগত শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এর জন্য সরাসরি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়ী। তিনি নির্বাচন ব্যবস্থাকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছেন। এমনকি ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রস্তাব তিনি দম্ভের সাথে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।"
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের চিত্র তুলে ধরে আলী রিয়াজ বলেন, "নির্বাচন কমিশন ও পিএসসি’র (সরকারি কর্ম কমিশন) মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আওয়ামী লীগের দলীয় আখড়ায় পরিণত করা হয়েছিল। ছাত্রলীগের কর্মীদের বলা হতো—'তোমরা শুধু পরীক্ষায় বসো, চাকরির ব্যবস্থা আমরা করে দেবো।' এটি সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা।"
তিনি আরও বলেন, "পুরো রাষ্ট্রকাঠামোকে ফ্যাসিবাদী রূপ দেওয়া হয়েছিল। এখন সময় এসেছে সেই কাঠামো ভেঙে নতুন করে গড়ার। এই ঐতিহাসিক সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে। বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হলে সংবিধান সংস্কার জরুরি। এজন্য সবাইকে সচেতনভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সংস্কার প্রস্তাবগুলো পৌঁছে দিতে হবে।"
তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "আপনারা হয়তো সব ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিস্তারিত জানেন না, তবে আপনাদের বুঝতে হবে যে এই পরিবর্তনগুলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আগামীর সুন্দর বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।"
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ইউজিসি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments