Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুরে পাঁচটি সংসদীয় আসনে ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪ প্রার্থীর জামানত বাজায়াপ্ত হয়েছে। বাজায়াপ্ত হওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, কোনো সংসদীয় আসনে সংগৃহীত বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা কমপক্ষে সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট অর্জন করতে না পারলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত জমা দিতে হয়। কোনো প্রার্থী মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে সেই জামানত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়। সে অনুযায়ী প্রাপ্ত ফলাফলে এসব প্রার্থী নির্ধারিত সীমার নিচে ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত হারিয়েছেন।

জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ২ লাখ ৭৬ হাজার ৭৫৪টি বৈধ ভোট পড়ে। এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর রউফ তালুকদার হাতপাখা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ১২১টি, জাতীয় পার্টির ফজলুল হক লাঙ্গল প্রতীকে ৯৩১, ও গণঅধিকার পরিষদের রফিকুল ইসলাম ট্রাক প্রতীকে ২২৭টি ভোট পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণ না হওয়ায় এই তিন প্রার্থীর জামানত বাজায়াপ্ত হয়েছে।

জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে ৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৮১টি মোট বৈধ পড়ে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুলতান মাহমুদ হতপাখা প্রতীকে ১ হাজার ৭১৩টি ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্ণব ওয়ারেস খান ঘোড়া প্রতীকে ১৭৪টি ভোট পেয়েছেন। ফলে এই দুই প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে ৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে ৩ লাখ ১৬ হাজার ১৪৬টি বৈধ ভোট পড়ে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ দৌলতুজ্জামান আনছারী হাতপাখা প্রতীকে ২ হাজার ৫৪৬টি, গণঅধিকার পরিষদের লিটন মিয়া ট্রাক প্রতীকে ৪১২টি, জাতীয় পার্টির মীর সামসুল আলম লিপটন লাঙ্গল প্রতীকে ৮৪৪টি, গণসংহতি আন্দোলনের ফিদেল নঈম মাথাল প্রতীকে ৬৪৩টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাদিকুর রহমান কাপ পিরিচ প্রতীকে ১২ হাজার ৫২টি, শিবলুল বারী রাজু সূর্যমুখী ফুল প্রতীকে ১০ হাজার ৫২৩টি এবং ফারজানা ফরিদ ২৮৪টি ভোট‌ পেয়েছেন। ফলে এই আসনের ৭জন প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। 

জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে ৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩১টি বৈধ ভোট পড়ে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আলী আকবর হাতপাখা প্রতীকে ১ হাজার ৩০২টি ভোট, গণঅধিকার পরিষদের মো. ইকবাল হোসেন ট্রাক প্রতীকে ৩৮৩টি, নাগরিক ঐক্যের মো. কবির হাসান কেতলী প্রতীকে ৩৭৯টি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মাহবুব জামান জুয়েল কাস্তে প্রতীকে ১ হাজার ৩১৪টি ভোট পেয়েছেন। ফলে এই ৪জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। 

জামালপুর-৫ (জামালপুর সদর) আসনে মোট প্রার্থী ১০ জন। এই আসনে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫৬টি বৈধ ভোট পড়ে। বাংলাদেশ কংগ্রেসের আবু সাঈদ মোহাম্মদ সা. আদাত-উল করীম ডাব প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২২৫টি, গণঅধিকার পরিষদের জাকির হোসেন ট্রাক প্রতীকে ৫৩৯টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. আমির উদ্দিন তারা প্রতীকে ৫৮০টি, জাতীয় পার্টির মো.বাবর আলী খান বাইসাইকেল প্রতীকে ৩ হাজার ৭৩৯টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শেখ মো. আক্কাস আলী কাস্তে প্রতীকে ৫৪৭ টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সৈয়দ ইউনুস আলী হাতপাখা প্রতীকে ৪ হাজার ২৮২টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ ইব্রাহীম আহমদ ফুটবল প্রতীকে ৩৫৪টি এবং হোছনেয়ারা বেগম ২৪৫ ভোট পেয়েছেন। ফলে এই আসনের ৮জন প্রার্থীর ভোটরে হার প্রয়োজনীয় সীমার নিচে থাকায় তাদের জামানত হারিয়েছেন।