Image description

দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে জাতীয় সংসদ কোনো রাবার স্ট্যাম্প নয়, বরং এটিই হবে দেশের সব যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তৃতার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি। যারা গুম, খুন এবং ‘আয়নাঘরের’ মতো বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের অসীম সাহসিকতাতেই আজ দেশে গণতন্ত্রের সূর্য উদিত হয়েছে।"

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত হিসেবে অভিহিত করে তারেক রহমান বলেন, "দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত শাসনামলে সেই সংসদকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি আজীবন আপসহীনভাবে লড়াই করেছেন। আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।" একইসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দর্শন উদ্ধৃত করে বলেন, "ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই বড়—এটাই বিএনপির মূল আদর্শ। জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তবে আমি সেই দলেই আছি।"

তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, "আমি দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সংসদে সমগ্র দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না।" তিনি প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারি ও বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্যের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

অধিবেশন শুরুর প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের গণবিরোধী আচরণের ফলে সৃষ্ট জনরোষে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেও আজ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা হয় কারাগারে, না হয় পলাতক। এমন সংকটকালীন অধিবেশনে সভাপতির প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭৩ সালের উদাহরণ টেনে বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানও জ্যেষ্ঠ সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। আজকের এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে আমরা প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কার্যক্রম শুরু করছি।"

সংসদ নেতা হিসেবে তারেক রহমানের এই ভাষণকে সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মানবকণ্ঠ/আরআই