হাতে কোদাল নিয়ে মাঠে নামলেন প্রধানমন্ত্রী, ৫৪ জেলায় একযোগে শুরু হলো ‘খাল খনন’ মহাযজ্ঞ
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা ঐতিহাসিক ‘খাল খনন’ কর্মসূচির আদলে নতুন উদ্যমে দেশব্যাপী জলাধার খনন ও পুনঃখনন কাজের সূচনা করেছেন তিনি। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় নিজে হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন সকালে ঢাকা থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়কপথে সরাসরি দিনাজপুরের সাহাপাড়ায় অনুষ্ঠানস্থলে যান। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে এবং এলাকায় দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধানের পথ প্রশস্ত হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই কোদাল হাতে সরাসরি খনন কাজে অংশ নেন, যা উপস্থিত জনতাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এই মেগা পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাশয় খনন করা। প্রথম পর্যায়ে আজ দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হলো। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বর্ষাকালের অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেই পানি ব্যবহার করে কৃষিকাজে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা। এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ধরে রাখতেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, স্বাধীন বাংলাদেশে আধুনিক কৃষিকাজ ও গ্রামীণ উন্নয়নে ১৯৭৭ সালে প্রথম খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সে সময় তিনি নিজে শ্রম দিয়ে সারা দেশে ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন করেছিলেন। গ্রামীণ জনগণকে সরাসরি উন্নয়নের অংশীদার করতে তিনি ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচিও প্রবর্তন করেছিলেন। দীর্ঘ বছর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই স্মৃতি ও আদর্শকে পুনরায় ফিরিয়ে আনলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে এই কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments