গত এক সপ্তাহ ধরে নীলফামারী জেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ না থাকায় যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন। হাতে গোনা দু-একটি পাম্পে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে ১০০ বা ২০০ টাকার বেশি তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ যানবাহন মালিকদের। তবে কালোবাজারে বেশী দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরকার তেল বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেওয়ার পরেও জেলার দু একটি পাম্প ব্যাতিত সকল পাম্প মালিকগন এখনো রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন।
এ ধরণের নানা কারণে জেলায় পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তেলের পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না ভোক্তারা। অধিকাংশ পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। কোথাও সীমিত আকারে সরবরাহ এলেও তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, পাম্পে তেল না মিললেও হাট বাজারের খুচরা দোকানগুলোতে অবাধেই বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন, তাও আবার চড়া দামে। প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩২০ টাকায়, যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্য যথাক্রমে ১১৬ ও ১২০ টাকা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই সংকট কেবল সরবরাহ ঘাটতির ফল নয়; বরং একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয়ভাবে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে খুচরা বাজারে অধিক দামে বিক্রি করছে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা পাম্পে তেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত মূল্যে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তেল সিন্ডিকেটের কাছে রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছে জেলার সাধারণ মানুষ।
গাড়ি চালকগন জানান, ‘এক সপ্তাহ ধরে পাম্পে নিয়মিত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। অথচ খুচরা দোকানে দ্বিগুন-তিনগুন বেশি দামে তেল সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।’
জেলা শহরের মোটরসাইকেল চালক হাবিব জানান, ‘গত ৩ দিন ধরে ৬ টি পাম্প ঘুরে কোথাও তেল পাইনি।’
অপরদিকে জেলার কৃষকেরা সেচ মৌসুমে তেলের অভাবে জমিতে পানি দিতে পারছেন না। এতে জেলার ফসল উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তেলের অভাবে গাড়ি চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে চালকদের জন্য। তেল সরবরাহ কবে নাগাদ স্বাভাবিক হয়ে আসবে, সে সম্পর্কেও কোনো স্পষ্ট তথ্য কারো কাছে নেই।
তবে পাম্প মালিকরা বলছেন, মূল সমস্যা সরবরাহ সংকট।




Comments