Image description

বাংলাদেশে খাদ্য পণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। দীর্ঘমেয়াদী এই উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বিশ্বব্যাংকের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ‘লাল তালিকায়’ স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.৩০ শতাংশে, যা গত ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০.৭২ শতাংশে পৌঁছানোর পর কিছুটা কমলেও গত পাঁচ মাস ধরে তা আবারও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতি ৯.১ শতাংশে অবস্থান করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর ‘অদৃশ্য কর’-এর মতো চেপে বসেছে। সাধারণ মানুষের আয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ব্যয় হচ্ছে খাদ্যের পেছনে। হিসাব অনুযায়ী, এক বছর আগে যে পরিমাণ খাবার কিনতে ১০০ টাকা লাগত, এখন সেই একই পরিমাণ খাবারের জন্য ১০৯ টাকা ৩০ পয়সা গুনতে হচ্ছে। বাড়তি এই খরচ সামাল দিতে অনেক পরিবারকে হয় সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, নয়তো খাবারের তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের বৈশ্বিক শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির দেশগুলোকে ঝুঁকির মাত্রাভেদে বিভিন্ন রঙে ভাগ করা হয়। বাংলাদেশ বর্তমানে ‘লাল’ বা উচ্চঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ অর্থাৎ ‘বেগুনি’ (সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ) শ্রেণিতে রয়েছে মালাউয়ি। এছাড়া ইরান, জাম্বিয়া, তুরস্ক ও আর্জেন্টিনার মতো দেশগুলোও দীর্ঘদিন ধরে উচ্চঝুঁকির তালিকায় অবস্থান করছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতি বজায় থাকলে দেশে পুষ্টিহীনতা ও দারিদ্র্যের ঝুঁকি চরমভাবে বেড়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর বাজার তদারকি ও টেকসই নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

মানবকণ্ঠ/ডিআর