Image description

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের বিশেষ আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কলিউশন সামিটে’ যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। 

বুধবার (২৫ মার্চ) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী ভাষণে ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “আমি আমার দেশের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এখানে এসেছি। আমার স্বামী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে।” 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি প্রগতিশীল জাতি গঠনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মতো যুগান্তকারী উদ্যোগ চালু করেছে, যা পরিবারগুলোকে আর্থিক সুরক্ষা প্রদানের পাশাপাশি শিশুদের নিরাপদ বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করছে।

একজন চিকিৎসক হিসেবে প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ডা. জুবাইদা রহমান। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) এবং ‘সুরভী’র মতো সংগঠনের সাথে আমার কাজের অভিজ্ঞতা শিক্ষা ও জনকল্যাণের প্রতি আমার দায়বদ্ধতাকে আরও দৃঢ় করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং এডটেক (EdTech) ব্যবহারের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য দূর করা সম্ভব।” 

তিনি জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ ও ডিজিটাল পাঠ্যক্রম চালুর মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করছে।

বাংলাদেশের নারী ক্ষমতায়নের ঐতিহ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। আমাদের সরকার এখন তা স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারীদের কর্মসংস্থানের যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, আমরা তা আরও এগিয়ে নিচ্ছি।”

মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডা. জুবাইদা বলেন, “প্রতিটি জাতির ভবিষ্যৎ তাদের শিশুদের যত্ন ও মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল।” এই সম্মেলনে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা অংশগ্রহণ করছেন।

অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং নারী উদ্যোক্তা মেহনাজ মান্নান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং ডেপুটি চিফ অব মিশন ডি. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ।

সম্মেলনের পাশাপাশি তিনি শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনী প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সমাপনী অধিবেশনেও ডা. জুবাইদা রহমান অংশগ্রহণ করবেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর