দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে চলমান কারসাজি, অবৈধ মজুতদারি এবং অস্থিরতা মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সব ধরনের যানবাহনের জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা করছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে জ্বালানি বিভাগ এ লক্ষ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একদল অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধের আতঙ্কে মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করায় পাম্পগুলোতে চাপ বাড়ছে। আগে যেখানে একদিনের সরবরাহ করা তেল বিক্রি হতে দীর্ঘ সময় লাগত, এখন তা মাত্র দুই ঘণ্টাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং তেলের অপচয় ও মজুত রোধে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর বিকল্প দেখছে না সরকার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনের মালিকদের এই বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে। এতে একটি কিউআর কোড থাকবে। গ্রাহকরা নির্দিষ্ট পাম্পে গিয়ে এই কার্ড বা কোড ব্যবহার করে তাদের পরিবহনের চাহিদা অনুযায়ী ডিজিটাল পদ্ধতিতে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে তেলের প্রতিটি লেনদেনের সঠিক হিসাব রাখা সম্ভব হবে।
ফুয়েল কার্ডের মূল বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাসমূহ:
১. সহজ পেমেন্ট: চালকরা ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো সহজেই ফিলিং স্টেশনে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। এতে নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমবে।
২. খরচ নিয়ন্ত্রণ: এই কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি ক্রয়ের একটি সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া সম্ভব হবে, যা তেলের অপচয় রোধে সহায়ক হবে। ডিজিটালভাবে জ্বালানি ব্যবহারের বিস্তারিত রিপোর্টও পাওয়া যাবে।
৩. নিরাপত্তা: কার্ডটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট গাড়ি বা চালকের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ফলে তেলের চুরি বা অপব্যবহার রোধ করা যাবে।
৪. মজুতদারি রোধ: যেহেতু প্রতিটি গাড়ির তেলের হিসাব কেন্দ্রীয় সার্ভারে থাকবে, তাই কেউ চাইলেই অবৈধভাবে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুত করতে পারবে না।
৫. সময়ের সাশ্রয়: কাগজের রসিদ বা ভাউচার জমানোর ঝামেলা কমবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেনদেনের হিসাব সংরক্ষিত হবে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সিস্টেমটি পুরোপুরি চালু করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা আসবে এবং অসাধু চক্রের কারসাজি চিরতরে বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments