২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই আড়ালে চলে গিয়েছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর (৮ মাস হিসেবে আলোচিত হলেও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী দীর্ঘ সময়) আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সাবেক স্পিকারকে বর্তমানে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে এবং লালবাগ থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হচ্ছে।
সরকার পতনের পর থেকে তার অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও এখন ধাপে ধাপে পরিষ্কার হচ্ছে তার আত্মগোপন জীবনের গতিপথ।
১. সংসদ ভবন থেকে উদ্ধার: সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের জবানবন্দি অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দিন শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ প্রায় ১২ জন নেতা সংসদ ভবনের একটি কক্ষে লুকিয়ে ছিলেন। পরে রাত আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
২. সেনানিবাসে আশ্রয়: জনরোষ থেকে জীবন বাঁচাতে তখন শিরীন শারমিন চৌধুরী সপরিবারে ঢাকা সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গত বছরের মে মাসে আইএসপিআরের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী তার সেনানিবাসে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
৩. পদত্যাগ ও নিরুদ্দেশ: সেনানিবাসে থাকাকালীনই ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। এরপর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
৪. দেশের ভেতরেই আত্মগোপন: ডিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য অনুযায়ী, সেনানিবাস থেকে বের হওয়ার পর তিনি বিদেশে যাননি, বরং দেশের ভেতরেই বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে ছিলেন। সর্বশেষ ধানমন্ডিতে তার স্বামীর মালিকানাধীন একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাবেক স্পিকারের বিরুদ্ধে কেবল ঢাকাতেই নয়, রংপুরেও হত্যা মামলা রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন হত্যা মামলায় তাকে অন্যতম আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার লালবাগে হওয়া হত্যা মামলাসহ মোট অর্ধডজন মামলায় তার নাম রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শিরীন শারমিন চৌধুরীর সংসদীয় রাজনীতি শুরু হয়। এরপর ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে এই দায়িত্ব পালন করেন।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments