সাধারণ নির্বাচন ও সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোট এক নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরিচালিত গণভোট এবং সাধারণ নির্বাচন বা অন্যান্য ভোট সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সাংবিধানিক ও আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিশেষ প্রয়োজনে যে গণভোটের বিধান রয়েছে, তার প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য সাধারণ ভোটের চেয়ে আলাদা। একে সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না।”
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি আয়োজিত গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই গণভোটটি নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করেছে গণভোট অধ্যাদেশ ও আরপিও (RPO) অনুযায়ী। তবে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যে গণভোটের কথা বলা হয়েছে, এটি তা নয়।
মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে গণভোট তখনই প্রয়োজন হয়, যখন সংবিধানের প্রস্তাবনা অথবা ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদে কোনো সংশোধনী আনা হয়। এ ধরনের সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে জনগণের সরাসরি মতামত বা গণভোট নেওয়া বাধ্যতামূলক।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে এই গণভোটের প্রস্তাব নিজেই করেছিলেন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদের আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করার জন্য তখন আমরা অন্য কোনো উপায় দেখিনি। তাই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।”
ভবিষ্যতে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন কোনো বিষয়ে গণভোট করতে হলে হয় সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করতে হবে, অন্যথায় নতুন আলাদা আইন পাস করতে হবে। যেহেতু সরকার চাইলে অন্য কোনো বিষয়ে গণভোট করতে পারবে না—এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা সংবিধানে নেই, তাই প্রয়োজনবোধে নতুন আইন করে গণভোট আয়োজন করা সম্ভব।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments