Image description

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ জিয়া সার কারখানায় (জেডএফসিএল) আগামী ১ মে থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান।

অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এক বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে জানান, গ্যাসের অভাবে আশুগঞ্জ সার কারখানাটি দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, “গ্যাসের অভাবে কারখানাটি বন্ধ থাকায় এলাকার মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। যদি দ্রুত গ্যাস সরবরাহ করা হয়, তবেই আমি এলাকার মানুষের কাছে মুখ দেখাতে পারব।”

জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, “সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিছুটা ঘাটতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তা সত্ত্বেও দেশের কৃষিখাত ও কৃষকদের বৃহৎ স্বার্থ বিবেচনা করে আমরা আগামী ১ মে থেকে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

বিগত সরকারের জ্বালানি নীতির কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সাল থেকে দেশে গ্যাসের সংকট ঘনীভূত হতে শুরু করে এবং পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যায়। তৎকালীন সরকার এই খাতকে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর করে তুলেছিল এবং নতুন কোনো গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকার জ্বালানি খাতে ‘ইমিউনিটি বিল’ পাস করে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করেছিল এবং বিপুল পরিমাণ বকেয়া রেখে গেছে।

মন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাপেক্সকে শক্তিশালী করে নতুন করে অনুসন্ধান কাজ শুরু করেছে। পরিত্যক্ত কূপগুলো থেকে গ্যাস উত্তোলন এবং নতুন নতুন উৎস অনুসন্ধানে সাফল্য এলে সারা দেশে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হবে। বর্তমানে সরকার দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস আহরণকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর