Image description

গ্যাস বিতরণে চরম বৈষম্যের অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সারা বাংলাদেশে যাচ্ছে, অথচ এই জেলার মানুষই গ্যাস পাচ্ছে না। আমার দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস আগে স্থানীয় মানুষের চাহিদা পূরণ করবে, তারপর অন্য এলাকায় যাবে।”

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২০তম দিনে সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকা আশুগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প নগরী। এখানে সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, চালকল ও বন্দর রয়েছে। ১৯৬২ সালে আবিষ্কৃত তিতাস গ্যাস ফিল্ড বর্তমানে ২২টি কূপের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। অথচ সরাইল ও আশুগঞ্জ সদরের বাসিন্দারা গ্যাসের চরম সংকটে আছেন।”

গ্যাস সঞ্চালন লাইনের ত্রুটির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরাইল সদরে সঞ্চালন পাইপের ব্যাস অত্যন্ত কম হওয়ায় সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্যাসের কোনো চাপ থাকে না। কাগজে-কলমে ৫ হাজার গ্রাহক থাকলেও অবৈধ সংযোগসহ এই সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়েছে। বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ লোকবল সংকটের দোহাই দিয়ে তদারকি করছে না, যার ফলে সাধারণ গ্রাহকরা মাটির চুলা বা এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিকল্প জ্বালানির দুর্ভোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাজারে একটি এলপিজি সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। অন্যদিকে বিদ্যুতের চুলার কথা বললে দেখা যায়, গ্রামে প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকে। ফলে গ্যাস ছাড়া সাধারণ মানুষের রান্নার আর কোনো উপায় নেই।”

রুমিন ফারহানা আরও জানান, বর্তমানে তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রে ৩১ নম্বর কূপের খনন কার্যক্রম চলছে, যেখান থেকে দৈনিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এই নতুন কূপের গ্যাস যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে দেওয়া হয়, সেজন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

মানবকণ্ঠ/ডিআর