কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে সুনামগঞ্জের হাওড়গুলো।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেটে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তের ওপারে ভারতে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ফসলহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ৩ মে থেকে ধান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে কৃষকের কাছ থেকে কিনতে বলা হয়েছে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরগুলোকে। এবার সিলেট অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ধান ফলানো হয়েছে- তার অধিকাংশই হাওড়ে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, পানি দ্রুত বাড়ছে এবং ইতোমধ্যে মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেলে হাওড়াঞ্চলের হাজার কোটি টাকার আধাপাকা বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
মূলত ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে ভারি বৃষ্টির প্রভাবেই এই পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।




Comments