Image description

সম্প্রতি দেশে তৈরি হওয়া জ্বালানি তেল সংকটের জন্য বিপণন কোম্পানিগুলোর গাফিলতিকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানিয়েছেন, জ্বালানি সচিবের দেওয়া নির্দেশনাগুলো অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

শনিবার (২ মে) রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৭৫ দিন আমি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় ব্যস্ত সময় পার করেছি। গত তিন মাসে আমরা জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি। সংকটের পেছনে কৃত্রিম কারণও ছিল। আমাদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো ও বিপণন কোম্পানিগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে সাধারণ মানুষকে গাড়ির দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট পেতে হতো না।” তবে বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং দীর্ঘ লাইন আর নেই বলে তিনি দাবি করেন।

খনিজ সম্পদ খাতের অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কয়লা জমে আছে, কিন্তু বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঠিকমতো চলছে না। আবার আমাদের উত্তোলিত পাথর স্তূপ হয়ে পড়ে থাকলেও তা কাজে লাগানো হচ্ছে না। এই খাতকে এগিয়ে নিতে হলে শক্ত হাতে পরিচালনা এবং নিয়মিত গবেষণা প্রয়োজন।”

জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, “বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির ওপর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিতে হবে। গবেষকদের এই খাতে আকৃষ্ট করতে হবে এবং ‘ব্রেইন ড্রেন’ (মেধা পাচার) রোধে কার্যকর পরিকল্পনা নিতে হবে।”

অনুষ্ঠানে ভূতাত্ত্বিক ও খনিজ উত্তোলন খাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর