Image description

৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন আহাদ মিয়া (৫৫)। কয়েক দিন পরই ধান ঘরে উঠানোর কথা। তবে অতিবৃষ্টির পানিতে ডুবে যায় সেই স্বপ্ন। জমি থেকে পানি সরছিল না তিন দিন ধরে। আর এটা দেখেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন কৃষক আহাদ মিয়া।
 
শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের হাওর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আহাদ মিয়া গোয়ালনগর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন বলে চিকিৎসকদের ধারণা।

জেলা ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলার হাওর এলাকার অন্তত এক হাজার হেক্টর ধানি জমি পানিতে তলিয়ে আছে। পচে যাওয়ার ভয়ে গত দুই দিন ধরে কৃষকরা পানির নিচে থাকা অপরিপক্ব ধান কেটে নিয়ে আসছেন। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত দু’শ কৃষকের তালিকা করা হয়েছে, যাদেরকে সরকারি সহায়তার আওতায় নিয়ে আসা হবে। 

দৈনিক ১২ শ থেকে ১৫ শ টাকা মজুরি দিয়ে ধান কাটানো হচ্ছে। তবে কয়েকদিন ধরে পানির নিচে থাকায় ইতিমধ্যেই কিছু ধানে পচন ধরেছে। এ ছাড়া কিছু ধান এখনো পুরোপুরি পাকেনি। এ অবস্থায় কৃষকরা পুরোপুরি লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

নাসিরনগরের মহাকাল পাড়ার কৃষক আবু লাল মিয়া জানান, তিনি ২০ কানি জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন।

এদিকে পানিতে জমি তলিয়ে যাওয়া দেখে মারা যাওয়া কৃষক আহাদ মিয়ার বড় ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্য আহম্মদ হোসেন বলেন, ‘সকালে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে গিয়েছিল আমার ভাই। সব ধান তলিয়ে গেছে দেখে অসুস্থ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।’