আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে ২৭টিসহ সারাদেশে ৩ হাজার ৬০০-এর বেশি পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এবার চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত গবাদিপশু মজুদ থাকায় কোরবানির পশু নিয়ে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
রোববার (৩ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৬টি এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১১টিসহ মোট ২৭টি হাট ইজারার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যত্রতত্র বা রাস্তার ওপর কোনো হাট বসতে দেওয়া হবে না। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় পশুর হাট বসানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “দেশীয় উৎপাদন দিয়েই এবার চাহিদা পূরণ সম্ভব। তাই সীমান্ত দিয়ে কোনো অবৈধ পশু যাতে দেশে ঢুকতে না পারে, সেজন্য বিজিবি ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি বড় হাটে একাধিক ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। এছাড়া অনলাইনে পশু কেনাবেচার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ‘হাসিল’ বা অতিরিক্ত খাজনা দিতে হবে না বলে নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রী।
পশু পরিবহনের সময় পথে পথে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধে পহেলা মে থেকেই সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই কার্যক্রম ঈদের আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এছাড়া কোরবানির হাট থেকে উৎপন্ন বর্জ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্থাৎ একই দিনেই অপসারণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরও জানান, বন্যাকবলিত হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় আগামী তিন মাস সরকারিভাবে বিশেষ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments