Image description

এবারের হজ ব্যবস্থাপনা নানা ব্যতিক্রমী ও যুগোপযোগী উদ্যোগে সমৃদ্ধ হয়েছে। হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো গঠন করা হয়েছে ‘ডেডিকেটেড সেবক টিম’। এই টিমের সদস্যরা হজযাত্রীরা ক্যাম্পে পৌঁছানোর সাথে সাথেই তাদের রিসিভ করে ব্যাগ ও লাগেজ নির্ধারিত কক্ষে পৌঁছে দিচ্ছেন। ফলে ক্যাম্পের শুরু থেকেই যাত্রীরা এক স্বস্তিদায়ক অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্কাউট স্বেচ্ছাসেবক ও আনজুমানিক খাদেমুল হজ সেবকদের সমন্বয়ে গঠিত আলাদা সেবা টিম দিনরাত কাজ করছে। হজযাত্রীরা ক্যাম্পে প্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে পাচ্ছেন এক বোতল পানি। এছাড়া অতীতে না থাকলেও এবারই প্রথম হজযাত্রীদের লাগেজ বিনামূল্যে র‍্যাপিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

নারী হজযাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগে ইমিগ্রেশন এলাকার ওয়াশরুম ব্যবহারে নারীদের সমস্যা হলেও, এবার মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নামাজের স্থানের পাশেই আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুম ও অজুখানা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া হজযাত্রীদের সঙ্গে আগত দর্শনার্থীদের জন্য নতুন টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।

হজযাত্রীদের মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনকে দুটি ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে নিয়োজিত রয়েছে বিশেষ ক্লিনার টিম। মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ধর্মমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহায়তা ও সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ফগিং, ট্র্যাপিং ও লিকুইড কয়েলসহ নেওয়া হয়েছে বহুমুখী ব্যবস্থা। এছাড়া আরামদায়ক অবস্থানের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে নতুন বিছানা, চাদর ও কম্বল।

হজযাত্রীরা জানান, আগে ভিসা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা থাকলেও এবার সবকিছু অনেক সহজ ও সুশৃঙ্খল। সার্বিক সেবায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। হাজিরা আল্লাহর মেহমান, তাদের সেবায় কোনো ত্রুটি রাখা হবে না। তারা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে হজ পালন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।”

হজ ক্যাম্পের পরিচালক লোকমান হোসেন জানান, ধর্মমন্ত্রী নিজে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে সেবার মান তদারকি করছেন। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট সবাই অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন এই সেবাগুলোর সংযোজন হজ ব্যবস্থাপনায় এক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর