Image description

বাংলাদেশের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পকে বছরের পর বছর ধরে কেবল অবহেলা ও চরম অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সঠিক দূরদর্শী পরিকল্পনা ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দেশের চামড়া শিল্প আজ অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল রপ্তানি খাতে পরিণত হতে পারত।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় অবস্থিত বিসিক শিল্পনগরীর ট্যানারি এলাকার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

শিল্পমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের বর্তমান রপ্তানি খাতের প্রায় ৮৫ শতাংশ বাজার তৈরি পোশাক বা আরএমজি খাতের দখলে। এর বাইরে অন্য কোনো পণ্য রপ্তানি বাজারে সেভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। চামড়া শিল্পটি একটি অত্যন্ত উচ্চ সম্ভাবনাময় খাত হওয়া সত্ত্বেও হাজারীবাগ থেকে যে অপরিকল্পিত উপায়ে এটিকে সাভারে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে যেভাবে অবহেলা করা হয়েছে, তার ফলে এই সেক্টরটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে তো পৌঁছায়ইনি, উল্টো আমরা এই খাতের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে নষ্ট করেছি।”

তিনি আরও জানান, প্রতিবছর সারা দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে যদি তার পুরোটা রপ্তানি খাতে কাজে লাগানো যেত, তবে দেশের অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসত। বর্তমানে সংগৃহীত চামড়ার মাত্র ১ শতাংশের চার ভাগের এক ভাগ (০.২৫ শতাংশ) সঠিকভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে। অথচ এর চেয়ে প্রায় ১২ থেকে ১৪ গুণ বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা এই খাত থেকে আহরণ করার সুযোগ রয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সাভারে একটি বিশ্বমানের ল্যাব স্থাপন করা হবে বলে ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

এর আগে শিল্পমন্ত্রী বিসিক শিল্পনগরীর কার্যালয়ে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় চামড়া শিল্পের বিদ্যমান তীব্র সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সম্ভাবনা, পরিবেশ দূষণ রোধ এবং সিইটিপির আধুনিক কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ট্যানারি শিল্পের দীর্ঘদিনের পরিবেশগত সংকট নিরসনে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সিইটিপির সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করা হবে এবং শতভাগ পরিবেশসম্মত পরিবেশ সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় বিসিকের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামসহ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ট্যানারির মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর