Image description

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর পৈশাচিক কায়দায় হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন আগামী সাত দিনের মধ্যে জমা দিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) আইনমন্ত্রী এই নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

এদিকে, বুধবার (২০ মে) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা। জবানবন্দিতে সে স্বীকার করেছে যে, ঘটনার আগে সে ইয়াবা সেবন করেছিল। মঙ্গলবার সকালে তার স্ত্রী স্বপ্নার সহযোগিতায় শিশু রামিসাকে তাদের রুমে নিয়ে আসা হয়। এরপর সোহেল তাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় রামিসার মা দরজায় কড়া নাড়লে সোহেল আতঙ্কিত হয়ে শিশুটির গলা কেটে ফেলে।

জবানবন্দিতে ঘাতক আরও জানায়, মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সে রামিসার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে এবং যৌনাঙ্গ ও হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত করে। পরে দেহটি খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে মাথাটি একটি বালতিতে ভরে রাখে। জানালার গ্রিল কেটে পালানোর পর পুলিশ তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের একটি ভবন থেকে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতি থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিশুটির ওপর এমন বর্বরতায় দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আইনমন্ত্রীর এই সাম্প্রতিক নির্দেশনার ফলে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই