Image description

আসন্ন ঈদুল আজহায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং কোরবানির পশুবাহী ট্রাকের দ্রুত পারাপার নিশ্চিত করতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় ঈদযাত্রার সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়। সভায় জানানো হয়, ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় এবার ঘাটে বিশেষ কঠোরতা অবলম্বন করা হবে।

সমন্বয় সভার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:
১. ফেরি ও লঞ্চের সংখ্যা: বহরে বড় রো-রো, ইউটিলিটি ও কে-টাইপসহ মোট ১৭টি ফেরি এবং ২০টি যাত্রীবাহী লঞ্চ যুক্ত থাকবে।
২. নিরাপত্তা বিধি: গত ঈদে ঘটা মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবার ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের অবশ্যই বাস থেকে নেমে যেতে হবে। পন্টুনের ওপর কোনো ইজিবাইক বা অটোরিকশা রাখা যাবে না।
৩. বাল্কহেড চলাচল বন্ধ: নদীর চ্যানেলে নির্বিঘ্ন যাতায়াতের লক্ষ্যে ঈদের আগে ৫ দিন এবং পরে ৫ দিন সব ধরনের বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
৪. ভাড়া ও সরঞ্জাম: লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও বয়া নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া যাবে না এবং বাসের ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান স্থানে রাখতে হবে।
৫. জরুরি উদ্ধার ও আইন: যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ঘাটে ফায়ার সার্ভিসের ৪ জন অভিজ্ঞ ডুবুরি সবসময় মোতায়েন থাকবে। অপরাধ দমনে কাজ করবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে মোবাইল কোর্ট।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দরের সহকারী প্রকৌশলী মো. আল-আমিন হোসেন জানান, দৌলতদিয়ায় বর্তমানে ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট সচল আছে। এছাড়া সিত্রাংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ নম্বর ঘাটটি পুনরায় সংস্কার করা হয়েছে, যা পানির স্তর বাড়লে ব্যবহার করা যাবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) শামসুল হক জানান, ঘাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ, ডিবি ও ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, ‘আমরা যাত্রী সাধারণের সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক তদারকি করব যাতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা কোনো ভোগান্তির শিকার না হন।’

জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে সভায় এনএসআই, ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/আরআই