Image description

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। রোববার (৩১ মে) সকাল থেকেই বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন এবং লঞ্চঘাটে রাজধানীমুখী মানুষের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের ফিরতি যাত্রায় নেই কোনো ভোগান্তি বা উপচে পড়া ভিড়। যাত্রীরা অনেকটা স্বস্তিতেই ফিরছেন তাদের প্রিয় কর্মস্থলে।

সরেজমিনে গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে আসা বাসগুলোতে যাত্রীদের চাপ স্বাভাবিক রয়েছে। ময়মনসিংহ, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জ থেকে আসা যাত্রীরা জানান, রাস্তায় যানজট না থাকায় এবং বাসের সংখ্যা পর্যাপ্ত হওয়ায় এবারের যাতায়াত অত্যন্ত আরামদায়ক হয়েছে। যাত্রীচাপ কম থাকার সুযোগে পরিবহনগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

নৌপথেও একই চিত্র দেখা গেছে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আসা দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা জানিয়েছেন, লঞ্চগুলো অনেকটা ফাঁকা এবং পরিচ্ছন্ন ছিল। বরিশাল থেকে আসা এক যাত্রী বলেন, "সাধারণত ঈদের পর লঞ্চে পা ফেলার জায়গা থাকে না, কিন্তু এবার পরিস্থিতি বেশ শান্ত।"

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এবার সরকারি ছুটি টানা সাত দিন (২৫ মে থেকে ৩১ মে) হওয়ায় মানুষ ধাপে ধাপে ফিরছেন। ফলে সব চাপ একদিনে পড়েনি। তবে আগামীকাল সোমবার (১ জুন) থেকে অফিস-আদালত, ব্যাংক ও শেয়ারবাজার খুলতে যাওয়ায় আজ বিকেলের পর থেকে রাজধানীমুখী মানুষের ভিড় কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একটি বিশেষ চিত্র লক্ষ্য করা গেছে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে। একদিকে যখন মানুষ ঢাকায় ফিরছেন, অন্যদিকে ঈদের সময় যারা গ্রামে যেতে পারেননি, তারা এখন পরিবার নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন। এই দ্বিমুখী যাত্রার কারণে বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে উৎসবমুখর এক ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে।

কমলাপুর রেলস্টেশনেও ট্রেনের ফিরতি শিডিউল এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোড়ে মোড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন যাতে যাত্রী সাধারণ কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন। সব মিলিয়ে এবারের ঈদোত্তর ফিরতি যাত্রা নগরবাসীর কাছে এক স্বস্তির নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই