Image description

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর নজিরবিহীন ঘোষণার মাত্র এক দিনের মাথায় সিদ্ধান্তে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। সমাজের প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বাড়তি দাম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফলে ৫০ ও ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা আগের হারেই বিল পরিশোধের সুযোগ পাবেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, আবাসিক গ্রাহকদের নিম্নস্তরের এই দুই ধাপে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য বিপিডিবি আবেদন করেছে। আবেদন মঞ্জুর হলে লাইফলাইন গ্রাহক (৫০ ইউনিট পর্যন্ত) এবং প্রথম ধাপের (৭৫ ইউনিট পর্যন্ত) গ্রাহকদের জন্য আগের মূল্যহারই বহাল থাকবে।

এর আগে গতকাল বুধবার বিইআরসি নতুন ট্যারিফ ঘোষণা করেছিল, যেখানে লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিটের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা এবং ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এদিকে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রান্তিক গ্রাহকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এই ট্যারিফ পুনর্বিবেচনার জন্য কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিপিডিবি কর্তৃক পাঠানো মূল প্রস্তাবে প্রান্তিক গ্রাহকদের দাম অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ থাকলেও বিইআরসির ঘোষিত ট্যারিফে তার প্রতিফলন ঘটেনি।

বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, নতুন দাম কার্যকর হলে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বড় ধরনের আর্থিক বোঝা তৈরি হবে, যা সরকারের জনবান্ধব নীতির পরিপন্থী। এ কারণে বিপিডিবি পুনরায় পুরোনো দাম বহাল রাখার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বিইআরসিকে অনুরোধ করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আজ বিকেলের মধ্যেই এই স্বস্তির খবরটি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/আরআই