Image description

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জিতে ক্যারিয়ারের পূর্ণতা পেয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে ফুটবল জাদুকরের জয়যাত্রা সেখানেই থেমে নেই। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ফুটবল ইতিহাসের একগুচ্ছ রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই মহাতারকা। 

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি বর্তমানে মেসির দখলে। ২০০৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মোট ৫টি বিশ্বকাপে তিনি ২৬টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামলেই এই রেকর্ডটি আরও ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

গোল করার রেকর্ডেও মেসির সামনে রয়েছেন জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসা। বিশ্বকাপে ক্লোসার মোট গোল সংখ্যা ১৬, যেখানে মেসির গোল ১৩টি। এবারের আসরে আর ৪টি গোল করতে পারলেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন দখল করবেন এলএমটেন।

আরেকটি অনন্য রেকর্ড গড়ার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে। এর আগে ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে গোল করেছেন তিনি। একমাত্র ২০১০ সালে কোনো গোল পাননি। ২০২৬ বিশ্বকাপে জালের দেখা পেলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়বেন মেসি।

আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের তালিকায় এখন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার সাথে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন মেসি। দুজনেই ৮টি করে গোল করিয়েছেন। এবারের বিশ্বকাপে একটি অ্যাসিস্ট করলেই ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে যাবেন তিনি, আর দুটি করালে গড়বেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের বিশ্বরেকর্ড।

অধিনায়ক হিসেবেও অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেন মেসি। ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো অধিনায়ক দুটি বিশ্বকাপ জিততে পারেননি। মেসি এবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে জোড়া বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়বেন। এছাড়া আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে তিনি হবেন প্রথম অধিনায়ক, যিনি দলকে তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ সালে তার অধীনেই ফাইনাল খেলেছিল আলবিসেলেস্তেরা।

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত এখন মুখিয়ে আছেন মেসির এই ঐতিহাসিক রেকর্ডের সাক্ষী হতে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর