চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে পিআইসিইউ (পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) শয্যার অভাবে অনেক শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ৫ মাস বয়সী শিশু মিশকাতুর রহমান হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর একদিনের মাথায় তার শ্বাসকষ্ট তীব্র হয় এবং অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। জরুরি ভিত্তিতে পিআইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হলেও কোনো শয্যা খালি না থাকায় তাকে সময়মতো নিবিড় পরিচর্যায় নেওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য সরকারি পর্যায়ে পিআইসিইউ শয্যা রয়েছে কেবল চমেক হাসপাতালে। সেখানে মোট ২০টি পিআইসিইউ শয্যার মধ্যে ১৫টি শুধু হাম রোগীদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও চাহিদার তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল।
প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনের বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে এই সংখ্যা আরও বেড়ে গেছে। গত পাঁচ দিনে শুধু চট্টগ্রামে ৩০১ জন শিশু ভর্তি হয়েছে, এবং বর্তমানে ২৮৩ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, প্রতিদিন অন্তত ১০ জন গুরুতর শিশুর জন্য পিআইসিইউ প্রয়োজন হয়, কিন্তু শয্যা সংকটের কারণে অনেককেই সাধারণ ওয়ার্ডে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ফলে গুরুতর অবস্থায় থাকা শিশুরা সময়মতো নিবিড় পরিচর্যা পাচ্ছে না।
একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, শয্যা না পাওয়ায় বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেও অনেক সময় সফল হওয়া যায় না। কেউ কেউ সন্তানের চিকিৎসার অপেক্ষায় থেকে প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটেছে।
চমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা বলেন, রোগীর চাপ এত বেশি যে পিআইসিইউ সব সময় পূর্ণ থাকে। একজন রোগীর অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলে বা কারও মৃত্যু হলে তখনই অন্য শিশুকে সেখানে নেওয়া সম্ভব হয়।
চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের এই বিস্তার ও পিআইসিইউ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে শয্যা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এ ধরনের মৃত্যু এড়ানো যায়।




Comments