Image description

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকায় নবগঠিত দুটি ইউনিয়নের নাম তাঁর দুই সন্তানের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সংসদে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। তবে প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি অস্বীকার করে এটিকে “অলৌকিক মিল” বলে দাবি করেছেন।

বগুড়া-২ আসনের এই এমপির নির্বাচনী এলাকায় সম্প্রতি শিবগঞ্জ উপজেলা ভেঙে মোকামতলা নামে নতুন উপজেলা গঠন করা হয়। এর আওতায় কয়েকটি ইউনিয়ন পুনর্গঠন করে নতুন ইউনিয়ন তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে “সীমান্ত” ও “দিগন্ত” নামের দুটি ইউনিয়ন।

প্রতিমন্ত্রীর বড় ছেলের নাম মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ছোট ছেলের নাম মীর সাকলাইন আলম দিগন্ত। এই নামগুলোর সঙ্গে নতুন ইউনিয়নের নাম মিলে যাওয়ায় বিরোধী দল বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করে স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও প্রভাবের অভিযোগ তোলে।

জামায়াতের এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ সংসদে বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির নামে ইউনিয়নের নামকরণ করা যায় না। অথচ প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নামের সঙ্গে নতুন ইউনিয়নের নামের মিল রয়েছে, যা প্রশ্ন তৈরি করে।

এর আগে ১১ জুন সৈয়দপুর ইউনিয়ন ভেঙে “সীমান্ত” ইউনিয়ন এবং দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে “দিগন্ত” ইউনিয়ন গঠন করা হয়। পাশাপাশি স্বর্ণগ্রাম নামে আরেকটি নতুন ইউনিয়নও তৈরি করা হয়েছে। গেজেট অনুযায়ী এসব ইউনিয়নের সীমানা ও জনসংখ্যা নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসন।

আইন অনুযায়ী, ইউনিয়নের নাম জেলা প্রশাসক নির্ধারণ করেন এবং কোনো ব্যক্তির নামে নামকরণ করা নিষিদ্ধ।

বিষয়টি নিয়ে সংসদে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এসব নাম তাঁর সন্তানদের নামে রাখা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের যাচাই-বাছাই, গণশুনানি এবং এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, সীমান্ত ইউনিয়নটি সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় এ নাম দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দিগন্ত ইউনিয়নটি দূরবর্তী এলাকায় হওয়ায় এমন নাম রাখা হয়েছে।

তবে তিনি স্বীকার করেন, তাঁর সন্তানদের নামের সঙ্গে এসব নামের “অলৌকিক মিল” রয়েছে, কিন্তু এটি কাকতালীয়।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বিভিন্ন স্থানে “সীমান্ত” ও “দিগন্ত” নামের বহু প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা রয়েছে, তাই এই নামগুলো স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহৃত হয়েছে।

এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তার বক্তব্য সমর্থন করেন।

গেজেট অনুযায়ী, সীমান্ত ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার ২৬৭ জন এবং দিগন্ত ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার ৭৫৯ জন।