গাইবান্ধার সাঘাটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবদল নেতাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। একই ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামে অভিযুক্ত যুবদল নেতা মোকলেছুর রহমান মুকুল ও তার ভাই পলাশের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ১০টার দিকে সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ তোফাজ্জাল হোসেন জানান, ২২ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদল কর্মী আশরাফ খন্দকার (৩৬) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) পবিত্র কুমার বলেন, “খুনের ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষুব্ধরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে।
নিহত সাইফুল্লাহ বারী সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনের সন্তান।
অন্যদিকে আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর গাইবান্ধা জেলা যুবদল এক বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্ত মোকলেছুর রহমান মুকুলকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে।
এর আগে রোববার বিকেলে বোনারপাড়া বাজার এলাকায় শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের সঙ্গে যুবদল নেতা মুকুলের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় মুকুল ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাইফুল্লাহ বারীর গলা ও ঘাড়ে আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহত সালাউদ্দিন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।




Comments