Image description

বরগুনার তালতলী উপজেলার তুলাতলী-নিউপাড়া সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেনের একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল রানা তুলাতলী-নিউপাড়া সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার অংশের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলতে যান। এ সময় তাদের মধ্যে হওয়া দীর্ঘ ফোনালাপের একটি অংশ রেকর্ড হয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল হওয়া অডিওতে দাবি করা হয়, সড়কটির মূল ঠিকাদার আঁখি কনস্ট্রাকশনের মো. বাদল কাজটি নয়ন মৃধার কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। বর্তমানে নয়ন মৃধা সাব-ঠিকাদার হিসেবে নির্মাণকাজ পরিচালনা করছেন।

কথোপকথনে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি যে বিষয়টি ধরেছেন, সেটা ঠিক আছে। তবে এর জন্য পুরো ইঞ্জিনিয়ারিং অফিস দায়ী নয়।’ তিনি আরও বলেন, দরপত্রে সর্বনিম্ন দর দেওয়ার পর ভ্যাট, আয়করসহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক ঠিকাদার লাভের আশায় কাজ অন্যের কাছে বিক্রি করে দেন।

অডিওর শেষাংশে নিজের বদলি প্রসঙ্গে প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা এখানে সারাজীবনের জন্য আসিনি। দুই-আড়াই বছর হয়ে গেছে। বাংলাদেশে ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে এটি জেড ক্যাটাগরির উপজেলা। এখানে কেউ আসতে চায় না। আমি যদি জোর করে চলে যেতে চাই, তাহলে জায়গামতো ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে যেতে হবে।’

এদিকে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, তুলাতলী-নিউপাড়া সড়কের নির্মাণকাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম হচ্ছে। তাদের দাবি, নিম্নমানের ইট, বালু ও কাদামাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশ নরম ও স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ছে।

তবে ভাইরাল অডিও প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, সাংবাদিক তার কক্ষে প্রবেশের আগেই মোবাইল ফোনে রেকর্ডিং চালু করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, খোলামেলা আলোচনার সময় বলা কথাগুলো অনুমতি ছাড়াই রেকর্ড করে পরে ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়েছে, যা অনৈতিক।

এ ঘটনায় এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।