টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক। কোথাও কোথাও বাড়িঘর ও আঙিনায়ও পানি উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, আগামী দুই দিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বেড়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও শাল্লার মারকুলি স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ও মোল্লাপাড়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। অনেক স্থানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে অন্তত ৫০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন সড়কের অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় পানি ওঠায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছে।
যাদুকাটা, বৌলাই, মাহারাম, রক্তি ও পাটলাই নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে বড়ছড়া ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের শতাধিক কয়লার ডিপো প্লাবিত হওয়ায় আরও প্রায় ১০ হাজার কয়লা শ্রমিক বিপাকে পড়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি ও মাউকিরওয়াত এলাকায়ও ভারী বৃষ্টির কারণে সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক বলেন, আগামী দুই দিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বন্যার আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সব উপজেলায় ত্রাণ, আশ্রয়কেন্দ্র, মেডিকেল টিম, বিশুদ্ধ পানি ও নৌযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ সংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
এদিকে নদীপথে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হাউসবোট মালিক ও চালকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। প্রতিকূল আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন না করা, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট রাখা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে হাউসবোট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখারও নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।




Comments