Image description

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ শুক্রবার পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফেরার পর তার কাছেই রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হবে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম রয়টার্সকে জানিয়েছেন, স্পিকার দেশে ফেরার পরই রাষ্ট্রপতি তার কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেবেন।

তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে অবগত কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে রাষ্ট্রপতির ওপর পদ ছাড়ার চাপ তৈরি হয়েছিল। সম্প্রতি শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা প্রকাশের পর সেই চাপ আরও বেড়েছে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কোনো ব্যক্তি আর দেশের শীর্ষ রাষ্ট্রীয় পদে থাকবেন না। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটির অনেক নেতা-কর্মী কারাগারে রয়েছেন কিংবা আত্মগোপনে আছেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি পদটির গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় আসে। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর নির্বাচিত রাষ্ট্রীয় পদে থাকা শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে মো. সাহাবুদ্দিনই ছিলেন সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রয়টার্স জানায়, ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনসংক্রান্ত ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ওই সহিংসতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

৭৬ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। রয়টার্সের এক সূত্রের দাবি, তিনি গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

মানবকণ্ঠ/এসএস