পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। বিএনপি জোটের মনোনয়ন পেয়ে ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে মাঠে নামলেও স্থানীয় বিএনপির টিকিটিও পাচ্ছেন না তিনি। উল্টো দুই উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন দলের সদ্য বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এলাকায় বিএনপির ভিত শক্ত করা হাসান মামুন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠ ছাড়েননি তিনি। তার সমর্থনে দুই উপজেলার পদধারী প্রায় সব প্রভাবশালী নেতা মাঠে নেমেছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাফ কথা—তারা কোনো 'বহিরাগত' বা জোটের প্রার্থী নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা হাসান মামুনকেই সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান।
এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ভিপি নুর বলেন, “যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে স্থানীয় বিএনপি পূর্ণ সহযোগিতা করছে না। আমার এখানে নেতাকর্মীরা দলীয় সিদ্ধান্তের চেয়ে হাসান মামুনের সিদ্ধান্তকে বড় করে দেখছেন। বিষয়টি আমি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছি এবং ব্যবস্থার অপেক্ষায় আছি।”
তবে নুরের এই হুঁশিয়ারিকে মোটেও পাত্তা দিচ্ছেন না স্থানীয় বিএনপি নেতারা। গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের দাবি, ২০১৮ সালে গোলাম মাওলা রনিকে মনোনয়ন দিয়ে দল যে খেসারত দিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি তারা চান না। তাদের মতে, দল প্রয়োজনে সবাইকে বহিষ্কার করুক, তবুও তারা হাসান মামুনের পাশেই থাকবেন।
নির্বাচনী সমীকরণেও বেশ চাপে রয়েছেন নুর। গলাচিপা উপজেলায় নুরের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় সেখানকার ভোট তিন ভাগে বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, দশমিনা উপজেলা থেকে একক হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে হাসান মামুন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তৃণমূলের এই গণবিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত ভিপি নুরের ‘ট্রাক’ প্রতীকের জয় নিশ্চিত করার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments