Image description

দলীয় প্রার্থীর পরিবর্তে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে এবং ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে পদ হারিয়েছেন ঝিনাইদহের চার বিএনপি নেতা। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন- ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কালীচরণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাজেদুর রহমান মন্টু, কালীচরণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ওলিয়ার রহমান মঞ্জু মাস্টার ও সাধুহাটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আতিয়ার বিশ্বাস।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামাল আজাদ পান্নু ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলমের নির্দেশক্রমে তাদের দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাল আজাদ পান্নু বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে এবং দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে তারা জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুণ্ডু) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলী আজম মো. আবু বক্কর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, যিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৪ ভোট। দলীয় কোন্দল ও নিজ দলের নেতাকর্মীদের একাংশের জামায়াত প্রীতিকেই মজিদের পরাজয়ের কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ঝিনাইদহের ৪টি আসনের মধ্যে ৩টিতেই জামায়াত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। একমাত্র ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান। নব্বইয়ের দশক থেকে বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই জেলায় দলীয় কোন্দলের কারণে এমন বিপর্যয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর