পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় দীর্ঘ ১৮ মাস পর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খুলে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করেছিলেন দলটির নেতাকর্মীরা। তবে খবর পেয়ে পাল্টা বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালিয়ে কার্যালয়টিতে পুনরায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা সদরে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে দশমিনা উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১০–১২ জন নেতাকর্মী দীর্ঘ দেড় বছর ধরে তালাবদ্ধ থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে কার্যালয়টি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নামে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় তারা দলীয় স্লোগানও দেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা ‘জিয়ার সৈনিক এক হও’, ‘তারেক জিয়ার অ্যাকশন’—সহ নানা স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীদের তাড়িয়ে দেন এবং কার্যালয়টিতে পুনরায় নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন।
দশমিনা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ হোসেন হাওলাদার জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল মনে করে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কার্যালয় খুলেছিলেন। কিন্তু ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা এসে তাদের প্রতিহত করে ভাঙচুর চালিয়ে আবার তালা ঝুলিয়ে দেয়। এখন পুলিশ তাদের আটক করতে বাসাবাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ভাঙচুরের বিষয়টি স্বীকার করে দশমিনা উপজেলা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম কিবরিয়া করিম বলেন, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কার্যক্রম শুরু করার খবর পেয়ে তারা দলীয় সিনিয়র নেতাদের অনুমতিক্রমে তাদের প্রতিহত করেছেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহ আলম শানু বলেন, “নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে অবস্থান নেওয়া উসকানিমূলক। তবে কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাত মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় যারা কার্যালয় খুলে আইন ভঙ্গ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অভিযান চলছে। এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments