অস্তিত্ব সংকটে আওয়ামী লীগ, ‘দল বাঁচাতে’ শীর্ষ নেতাদের দেশে ফেরার দাবি তৃণমূলের
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে আওয়ামী লীগ। মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এখন তীব্র হতাশা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তৃণমূলের নেতাদের মতে, বিদেশের নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে দল পরিচালনা করা এখন আর সম্ভব নয়। ‘দল বাঁচাতে’ হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে হলেও দ্রুত দেশে ফেরা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের বর্তমান অভ্যন্তরীণ চিত্র। দলটির তৃণমূলের অনেকের মধ্যে একটি ধারণা ছিল যে, নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করলে হয়তো তারা এলাকায় সাংগঠনিক কাজ শুরু করার সুযোগ পাবেন। কিন্তু নির্বাচনের পরও পরিস্থিতি আগের মতোই রয়ে গেছে।
ঢাকার বাইরের একটি উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা (ছদ্মনাম আরিফুল ইসলাম) জানান, “মনে করেছিলাম বিএনপি ক্ষমতায় আসলে হয়তো আমরা এলাকায় ফেরার সুযোগ পাবো। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞাও থাকবে না। কিন্তু বাস্তবতা আমাদের আশার উল্টো।” তাদের এই আশাবাদের কারণ ছিল বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো দল নিষিদ্ধ না করার ঘোষণা এবং নির্বাচনের আগে সাধারণ ভোটারদের ভোট পেতে তৃণমূলের প্রতি নমনীয় থাকা। এমনকি কোনো কোনো নেতা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে রাজনৈতিক চাপ কমবে—এমন আশায় তারা সাধারণ ভোটারদের বিএনপিকেও ভোট দিতে বলেছিলেন।
এদিকে, গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর দেশের কিছু স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার ঝটিকা চেষ্টা দেখা গেলেও পরে হামলার মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে দলীয় কার্যালয়গুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। মাঠপর্যায়ের নেতাদের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়া কর্মীদের চাঙ্গা করা অসম্ভব। আরিফুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা দখল করতে গেলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব লাগবে। নেতৃবৃন্দের এখন গ্রেপ্তারের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে হলেও দেশে ফেরা উচিত।”
তৃণমূলের এই দাবির বিপরীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম জানান, নেতারা উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় আছেন। তিনি বলেন, “নেতারা বাইরে আছেন মানেই বাইরে থেকে দল পরিচালনা করছেন তা নয়, কর্মীরা দেশের ভেতরে থেকেই আন্দোলন করছেন।” তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ–সংক্রান্ত বিল পাস এবং সাবেক স্পিকারের গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে দেশে কোনো নেতার কথা বলার সুযোগ আছে কি না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একদিকে সংসদের নতুন আইন এবং অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আপাতত বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ বা গ্রেপ্তার-নির্যাতনমুক্ত রাজনীতির যে প্রত্যাশা আওয়ামী লীগ করছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments