Image description

গণভোটের রায় কার্যকর ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আগামীকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকায় বিশাল ‘জাতীয় সমাবেশ’ এবং সারাদেশে মহানগরগুলোতে গণমিছিল করবে জোটটি। দাবি আদায় না হলে পর্যায়ক্রমে হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শীর্ষ নেতারা।

আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই জাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জুলাই বিপ্লবের আট শতাধিক শহীদ পরিবার, আহত সদস্য এবং হাজারো ‘জুলাই যোদ্ধা’ এই সমাবেশে অংশ নেবেন। ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ জানান, এই সমাবেশ থেকে সরকারকে একটি চূড়ান্ত বার্তা দেওয়া হবে। একই দিনে ঢাকা বাদে দেশের সকল মহানগরীতে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২ মে দেশের সকল জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বিভাগীয় ও গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে সেমিনার ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, “জনগণ এখন ক্ষুব্ধ। বিএনপি সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের চড়া মাসুল দিতে হবে। দাবি মানা না হলে অচিরেই আমরা ‘নরম’ কর্মসূচি থেকে ‘গরম’ কর্মসূচির দিকে যাব।”

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়। জোটের অভিযোগ, বিজয়ী হওয়ার পর বিএনপি সেই জনরায়কে অবজ্ঞা করছে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন প্রক্রিয়া থামিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘বিএনপি ঐক্যমত্য কমিশনে স্বাক্ষর করেও এখন তা অস্বীকার করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা যদি পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী সরকারের মতো আচরণ করে, তবে জনরোষের মুখে শান্তিতে থাকতে পারবে না।’

এদিকে, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল গণসমাবেশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। সমাবেশে দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘৩৬ জুলাইয়ের নতুন বাংলাদেশে মানুষের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার। কিন্তু জনগণের সেই রায় নিয়ে এখন তামাশা শুরু হয়েছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।’

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়াও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এখন সময়ের দাবি। এই আন্দোলন কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য।’

জোট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ এপ্রিলের বৈঠকে ২ মে পরবর্তী আন্দোলনের আরও কঠোর কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হতে পারে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর