অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে আকস্মিক পদত্যাগের ৪৮ ঘণ্টা পর নীরবতা ভেঙেছেন সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। বুধবার (৩ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করার পাশাপাশি পার্বত্যবাসীকে শান্ত থাকার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
সোমবার (১ জুন) দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়। সেই উদ্বেগ নিরসনেই মূলত এই বক্তব্য নিয়ে হাজির হয়েছেন সাবেক এই মন্ত্রী।
পাহাড়ি ও বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সালাম ও নমস্কার জানিয়ে দীপেন দেওয়ান লিখেন, “আমার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে তিন পার্বত্য জেলার মানুষের মধ্যে যে আবেগ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আমি অবগত। আমি সবাইকে অনুরোধ করব—আপনারা শান্ত থাকুন, ধৈর্য ধরুন। কোনো ধরনের উসকানি বা বিভ্রান্তিতে পা দেবেন না। পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের সবার, এর শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার দায়িত্বও আমাদের সবার।”
নিজের রাজনৈতিক শেকড়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর আদর্শ ও দেশপ্রেমই আমার প্রেরণা। আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি এবং আমৃত্যু এই দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে থাকতে চাই।” তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যেকোনো পরিস্থিতিতেই বিএনপিই তাঁর শেষ ঠিকানা এবং তিনি কখনোই দল ত্যাগ করবেন না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল জানিয়ে দীপেন দেওয়ান বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমি এগিয়ে যেতে চাই। ব্যক্তি নয়, জনগণের কল্যাণই আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠুক এই অঞ্চল, এটাই আমার চাওয়া।”
উল্লেখ্য, তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে পদত্যাগ পরবর্তী রাজনৈতিক ধোঁয়াশা ও দলবদলের গুঞ্জন অনেকাংশেই স্তিমিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব ছাড়লেও দলের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার অটুট রয়েছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments